নারায়ণগঞ্জবন্দর

মৃত্যুর ৪০ দিন পর কবর থেকে তোলা হলো লাশ

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গৃহবধূ রোজিনা আক্তার রোজির (৩৩) মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে একমাস ১০ দিন পর কবর থেকে লাশ তোলা হয়েছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গৃহবধূর ভাই মাসুদ বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আদালতের নির্দেশে বন্দর উপজেলার কল্যানন্দী কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ তোলে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

মামলার আসামিরা হলেন, বন্দর রাজবাড়ী দক্ষিণ কুঞ্চপুর এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিন মিয়ার ছেলে ও নিহত রোজিনার স্বামী মুরাদ (৩৯), মুরাদের মা পিয়ারা বেগম (৫৬), সালেহনগর এলাকার মৃত দীল মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে কুতুব উদ্দিন (৫৩), তার স্ত্রী জিয়াসমিন (৪০) ও ছেলে লারছন (২৪)। মামলা দায়ের পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

নিহত রোজিনা আক্তার রোজি বন্দর উপজেলার এইচএম সেন রোড এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জাব্বার সরদারের মেয়ে।

মামলার বাদী মাসুদ জানান, ৭ বছর আগে তার বোন রোজিনাকে মুরাদের সঙ্গে বিয়ে দেন। তাদের একটি সন্তান রয়েছে। এক মাস ১০ দিন আগে তার বোন মারা যান। বোন স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে ভগ্নিপতি ও তার পরিবার ফোন করে জানান।

সেসময় বোনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে উপজেলার কল্যান্দি কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরে জানতে পারেন রোজিনাকে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু সায়েম জানান, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোজিনা আক্তার মারা যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে লাশ দাফন করেন। কিন্তু নিহতের বড় ভাই মাসুদ তার বোনকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআই নারায়ণগঞ্জকে দায়িত্ব দেন। পরে পিবিআই জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম মামলাটি তদন্তের জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর লাশ উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়।

আদালত বন্দর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা সুলতানা শারমিনের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করার জন্য আদেশ দেন।

ওই গৃহবধূকে যদি হত্যা করা হয়ে থাকে তাহলে হত্যাকাণ্ডে যারাই সম্পৃক্ত থাকুক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button