রাজনীতি

সোনারগাঁয়ের রাজনীতি –আসগার ইবন হযরত আলী

সোনারগাঁ টাইমস ২৪ ডটকম :

ঈসা খাঁ, মুসা খাঁ, হোসেন শাহী, গিয়াস উদ্দীন আযম শাহ, শরফুদ্দীন আবু তাওয়ামা, মুহাম্মদ বিন কাসেম, ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি ও ৫ পীরসহ বহু মহৎ ব‍্যক্তিবর্গ, মহা প্রাণ, প্রাণপুরুষদের পূণ‍্যভূমি আমার সোনার গাঁ।

তাঁদের শৌর্য-বীর্যপূর্ণ কীর্তি-কর্মে একদিন বিশ্ব ছিলো তাঁদের নিকট ঋনি। তাঁরা ছিলেন তখন বিশ্বের নন্দিত নেতা। আমরা তাঁদেরই উত্তরসূরি অধ:স্তন পুরুষ। এ জন্য আমরা সোনারগাঁবাসী হিসেবে গর্বিত ও ধন‍্য।

ইতিহাস থেকে তাঁদের বীরত্বগাঁথা কর্যক্রম জেনে গর্বে আমাদের বুক এক বিগত ফুলে যায়, সাহসে মন ভরে ওঠে, আশায় বুকে বাসা বাঁধে। আশা আমরাও কিছু হতে ও করতে পারব।

সোনারগাঁ সম্পর্কে আমার এ ক্ষুদ্র অনুভূতির পর রাজনীতির অর্থ ব‍্যক্ত করতে চাই। তার আগে জানবো রাজনীতি কি?

রাজনীতি অর্থ শ্রেষ্ঠ নীতি/নীতির রাজা। যেমন: রাজমিস্ত্রি অর্থ মিস্ত্রির রাজা, আনুরূপে রাজহাঁস মানে হাঁসের রাজা, রাজপথ মানে পথের রাজা। শ্রেষ্ঠ/সেরা নীতির কথা বললে- জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নীতি সবচেয়ে সেরা/শ্রেষ্ঠ নীতি।

অন‍্য কথায় তাঁর নীতি/মতবাদ/ আদর্শই একমাত্র, শুধুমাত্র, কেবলমাত্র, সর্বকালের,সর্বযুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ নীতি বলে স্বীকৃত। সুতরাং তাঁর নীতিই নি:সন্দেহে রাজনীতি।

তাই রাজনীতি করা মুসলমানদের পূত:পবিত্র দায়িত্ব। রাজনীতিকে কোন গোষ্ঠি/সম্প্রদায়কে ইজারা দেয়া হয়নি।

শুধু মোল্লা-মৌলভিরাই রাজনীতি করবে কিংম্বা তারা শুনু ঈমামতি ও মুদারেসি করবে, আর অন‍্যেরা যারা রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর -আদর্শের জ্ঞান বিবর্জিত শুধু তারাই রাজনীতি করবে।

তাহলে হিতে বিপরীত হবে। রাজনীতির সুফল কেউ পাবে না, সকলেই রাজনীতির গ‍্যারাকলে পিষ্ট হবে। নি:সন্দেহে, বর্তমানে হচ্ছেও তাই। ড্রাইভিং-এর সঠিক জ্ঞান ছাড়া গাড়ি চালালে যাত্রী ও চালকদের যে দশা হবে (পঙ্গুত্ব/নির্ঘাত মৃত্যু বরণ করতে হবে)।

তেমনি রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদর্শ অর্থাৎ ইসলামের সঠিক জ্ঞান না নিয়ে রাজনীতি করলে (অশান্তি-দুঃখ-দুর্গতি ও ঈমান হারা মৃত্যু হবে)। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুসারী খুলাফায়ে রাশেদিনের ন‍্যায় সোনালী যুগ কশ্মিন কালেও পাওয়া যাবে না।

সোনার বাংলাও গড়া সম্ভব হবে না। অতএব রাজনীতি করতে হবে ইসলামের সঠিক জ্ঞান নিয়ে। আধুনিক ও ইসলামের জ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হবে রাজনৈতিক নেতা-কর্মিদের মধ্যে।

ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করত: ইসলামের বাস্তব অণুসারি হতে হবে। মুনাফেকি বর্জন করতে হবে। নেতাপূঁজা কখ্খনো করা যাবে না। শ্রেষ্ঠ নীতি/ইসলামের পূঁজাই করতে হবে, করে যেতে হবে এবং করতেই থাকতে হবে আমরণ। অন‍্যথায় শেষরক্ষা হবে না।

দূনিয়ার জীবনে আসবে লাঞ্চনা, অপমান আর মৃত্যুর পরে হবে কঠিন শাস্তি জাহান্নামে।

মনে রাখতে হবে রাজনীতিতে ধোঁকাবাজি ও ছলছাতুরি স্থান নেই। যারা ধোঁকিবাজি, ছলছাতুরি ও মিথ‍্যা আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতা দখল করে তাদের সহযোগিতা ও অণুসরণ করলে সম অপরাধি হয়ে একই জাহান্নামে জ্বলতে হবে।

এবার সোনার গাঁয়ের রাজনীতি প্রসঙ্গে আসা যাক, সোনারগাঁয়ের রাজনীতি অধুনা প্রাণ শূন‍্য প্রায়।

বর্তমান এম.পি মহোদয়ের পূর্ব আমলে থেকেই প্রতিহিংসার কারণে বিরুধি দলীয় নেতা-কর্মিদের ওপর উপর্যুপরি হামলা-মামলার পর মামলা করে তাদের দৌড়ের ওপর রাখা হয়েছে।

বিএনপি নির্বাসনে, জামায়াত পর্দার অন্তরালে, আ’লীগ দ্বিধা-বিভক্ত, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায়।

জাতীয় পার্কটির কেন্দ্রীয় নেতা শরীকদল হিসেবে সরকার সমর্থিত সোনারগাঁয়ের নির্বাচিত এম পি। ফলে স্বভাবত কারণে এখানকার সরকারি দলের সম্ভাব‍্য এম পি ও তার সমর্থকদের মধ‍্যে উৎসাহ-আনন্দ কম।

এখানকার রাজনীতিতে বর্তমান এম পি মহোদয় লিয়াকত হোসেন খোকা সাহেব পূর্বেকার এম পি মন্ত্রীদের তুলনায় জনগণকে একটু বেশি সময় দিচ্ছেন, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ঐক্য করছেন, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, মাসজিদ ওয়াজ মাফিলে বেশি বেশি যোগ দিচ্ছেন।

এ সমস্তই প্রশংসা যোগ‍্য। জনগণকে কাছে টানছেন; সাধারণ জনগণ ইচ্ছে করলেই সহজে তার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারে।

তদুপরি জনগণ সে অণুপাতে জাপাতে সম্পৃক্ত হচ্ছে বলে মনে হয়না। এর বহূবিধ কারণ থাকতে পারে, তবে আমাদের মতে প্রধান ও অন‍্যতম একটি কারণ হচ্ছে: নির্বাচন উৎসব থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে বার বার। তারা ভোটের সময় ভোট দিতে না পারর দুঃখের কারণে রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল সম্পর্কে দিন দিন নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

বিধায় ভোটাধিকার বঞ্চিতরা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া থেকে বিরত থাকছে। আমাদের বিশ্বাস এম পি সাহেব যদি জনগণের আবেগ অনুভূতিকে মূল‍্যায়ণ করেন, স্থানীয় ইউপি ও পৌরসভা নির্বাচনপ তাদের আশা-আকাঙখার প্রতিফলন ঘটান, জনগণের অবাধ ভোটদানের ব‍্যাবস্থা করে দেন, তবে তারা আপনার কথা ভুলবে না।

স্থানীয় নির্বাচনে তো সরকার পরিবর্তন হয় না। অন্তত পক্ষে তা Free & Fair হতেই পারে, এখানে ভোট ডাকাতি কেন? তাতো কঠোর হস্তে দমন করা আপনার পক্ষে অসম্ভবের কিছুই নয়।

অতএব আগামিতে সোনার গাঁয়ে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হবে; আর এটিকে সারা দেশ মডেল হিসেবে গ্রহণ করবে এবং জনমনে নির্বাচন সম্পর্কে সু-ধারণা পয়দা হবে। লিয়াকত হোসেন খোকার প্রতি গণমানুষের সমর্থন বাড়তে পারে। এটাই আমাদের সকলের কাম‍্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button